যুক্তরাষ্ট্র চীনের এক গোপন পারমাণবিক পরীক্ষার নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ২০২০ সালের জুন মাসে একটি গোপন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল চীন এ সংক্রান্ত নতুন কিছু তথ্য তাদের হাতে এসেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়াও ওয়াশিংটনে এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেন, কাজাখস্তানের একটি দূরবর্তী ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ২০২০ সালের ২২ জুন পশ্চিম চীনের লোপ নুর পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে প্রায় ৭২০ কিলোমিটার দূরে ২ দশমিক ৭৫ মাত্রার একটি বিস্ফোরণ শনাক্ত করেছিল।
ইয়াও বলেন, এরপর থেকে আমি অতিরিক্ত তথ্য পর্যালোচনা করেছি। আমি বলব, এটি বিস্ফোরণ ছাড়া অন্য কিছু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, এটি একটি একক বিস্ফোরণ।
তিনি বলেন, তথ্যগুলো খনির বিস্ফোরণের সঙ্গে উপযোগী নয়। এছাড়া ভূমিকম্পের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এদিকে পারমাণবিক পরীক্ষার বিস্ফোরণ শনাক্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছে, ইয়াওয়ের এই অভিযোগ নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য তাদের কাছে নেই।
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ ই-মেইল বিবৃতিতে বলেন, চীন পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরুর জন্য অজুহাত তৈরি করার চেষ্টা।
তিনি বলেন, এটি পারমাণবিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে রাজনৈতিক অপপ্রচার এবং নিজস্ব নিরস্ত্রীকরণ দায়িত্ব এড়ানোর প্রচেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক পরীক্ষা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে পাঁচটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানায়। পাশাপাশি পারমাণবিক পরীক্ষাবিরোধী বৈশ্বিক ঐকমত্য বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও বিস্তাররোধ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করতে বাস্তব পদক্ষেপ নিতেও ওয়াশিংটনের প্রতি বেইজিংয়ের পরামর্শ থাকবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র সীমাবদ্ধতা চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিশ্ব একটি দ্রুতগতির পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে এগোচ্ছে এমন আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে। এমতাবস্থায় ট্রাম্প চীনকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে একটি নতুন কৌশলগত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসতে চাপ দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড।









