সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হালকা, মাঝারি ও ‘ফুল কাভারেজ’ ফাউন্ডেশন বাছাইয়ের উপায়

ত্বকের সাজে যে প্রসাধনী মসৃণ ও সমান দেখাতে ব্যবহার করা হয় সেটিই হল- ‘বেস প্রসাধনী’ বা ত্বক সমান করার ক্রিম। সৌন্দর্যজাগতে যার নাম ফাউন্ডেশন।

তবে বছর বছর ফাউন্ডেশন ব্যবহার ও ধরনে আসে বদল। এমন বহু বিকল্প তৈরি হয় যা ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রেখেও প্রয়োজনমতো দাগ, অসম রং বা ক্লান্তভাব ঢেকে দিতে পারে।

তবে হালকা, মাঝারি, না ‘ফুল কাভারেজ’ ফাউন্ডেশন কোনটি ব্যবহার করা উচিত?

রূপবিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পণ্য নির্বাচনে সাজ ভারী না করেও স্বাভাবিক সৌন্দর্য আরও উজ্জ্বল করা সম্ভব।

ফাউন্ডেশন কী এবং কেন তা গুরুত্বপূর্ণ?

রূপ-বিশারদ ও ‘জারা’স বিউটি লাউঞ্জ অ্যান্ড ফিটনেস সেন্টারে’র প্রধান ফারহানা রুমি বলেন, “ত্বকের সাজ বাছাই করার সময় প্রথমে ভাবতে হবে কতটা দাগ বা অসম রং ঢাকতে হবে এবং কেমন ‘লুক’ প্রয়োজন। ত্বক একেবারে স্বাভাবিক রাখা পছন্দ হলে এক রকম ফাউন্ডেশন দরকার আর খুব নিখুঁত ও দাগহীন চেহারা চাইলে অন্য রকম।”

ফাউন্ডেশনের স্তর মূলত তিন ধরনের- হালকা, মাঝারি এবং সম্পূর্ণ বা ফুল কাভারেজ। প্রতিটি ফাউন্ডেশনের ব্যবহার ও ফল আলাদা।

তাই কোন পরিবেশে যাওয়া হচ্ছে, কতক্ষণ সাজ থাকতে হবে, ত্বকের অবস্থা কেমন এসব বিবেচনা করেই ফাউন্ডেশন নির্বাচন করে উচিত।

হালকা কাভারেজ ফাউন্ডেশন: স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রাখার উপায়

হালকা ফাউন্ডেশন ত্বককে ঢেকে দেয় না, বরং সামান্য সমান করে। ফলে ত্বকের স্বাভাবিক রং, ফ্রেকলস বা ছোট দাগ কিছুটা দেখা যায়, যা অনেকেই পছন্দ করেন। এতে সাজ খুব ভারী লাগে না।

ফারহানা রুমি বলেন, “মুখে ভারী প্রসাধনী পছন্দ করেন না কিংবা সারাদিন আরামদায়ক অনুভূতি চাইলে এই ধরনটি ব্যবহার উপযুক্ত। এটি প্রতিদিনের বাইরে যাওয়া, অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় বা দিনের কাজের জন্য ভালো।”

এই রূপচর্চাকর একটি কৌশলের কথা বলেন, “যদি নিজের কাছে তুলনামূলক ঘন পণ্য থাকে, তবে বড় ও নরম তুলি ব্যবহার করলে তা হালকা ফাউন্ডেশনের মতো দেখাতে পারে। এতে ত্বক প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল থাকে।”

মাঝারি কাভারেজ ফাউন্ডেশন: স্বাভাবিকতা ও নিখুঁততার মাঝামাঝি সমাধান

মাঝারি কাভারেজ ফাউন্ডেশন এ সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এতে ত্বক মোটামুটি সমান দেখায়, আবার পুরোপুরি ঢাকাও পড়ে না। প্রয়োজনে স্তর বাড়িয়ে কাভারেজও বাড়ানো যায়।

এই কাভারেজ ফাউন্ডেশন ত্বককে সমান করে তবে মুখে কৃত্রিম ‘লুক’ দেয় না। সামান্য দাগ বা রংয়ের পার্থক্য ঢাকতে হবে। তবে ত্বকের স্বাভাবিকতাও বজায় রাখা প্রয়োজন এমন হলে এটি উপযুক্ত।

তবে এই ফাউন্ডেশন মুখের মাঝখান থেকে ব্যবহার শুরু করা উচিত। কারণ নাক ও চোখের নিচে সাধারণত বেশি রংয়েরর তারতম্য থাকে। এরপর বাইরে দিকে মিশিয়ে দিলে সাজ স্বাভাবিক দেখায়।

এই ফাউন্ডেশন দিনের অনুষ্ঠান, অফিস পার্টি কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানেও ভালো মানায়।

ফুল কাভারেজ ফাউন্ডেশন: নিখুঁত সাজের জন্য

যখন ত্বকের দাগ, ব্রণের চিহ্ন, লালচেভাব বা অন্যান্য সমস্যা সম্পূর্ণ ঢাকার প্রয়োজন হয়, তখন ফুল কাভারেজ ফাউন্ডেশন প্রয়োজন। এই প্রসাধনী অনেকটাই ঘন এবং দীর্ঘসময় ত্বকে স্থায়ী হয়।

এই ধরনের পণ্য ব্যবহার করার সময় প্রথমে তুলি দিয়ে লাগিয়ে পরে ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে মিশিয়ে নিলে ত্বকে ফল সবচেয়ে ভালো পাওয়া যায়।

এতে ফাউন্ডেশন কেকের মতো জমে থাকে না এবং সমানভাবে বসে যায়। সাধারণত বিয়ে, বড় অনুষ্ঠান, মঞ্চে ওঠা বা ফটোশুটের জন্য ব্যবহার করা হয় এমন ফাউন্ডেশন।

ত্বক প্রস্তুত না করলে সাজ ভালো হয় না

যে কোনও ধরনের ফাউন্ডেশনই ব্যবহার করা হোক না কেন, ত্বক প্রস্তুত না থাকলে ফল ভালো হবে না।

মেইকআপ শুরুর আগে ত্বক পরিষ্কার করে আর্দ্রতা বজায় রাখা জরুরি। শুষ্ক ত্বকে সাজ ভেঙে যায়, আবার অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকে প্রসাধনী গলে যেতে পারে।

তবে ত্বক আর্দ্র রাখলে প্রসাধনী সহজে বসে এবং দীর্ঘসময় সুন্দর থাকে।

একই পণ্য ভিন্নভাবে ব্যবহার সম্ভব

একবার এক ধরনের প্রসাধনী কিনেলে, সেটি সবসময় একইভাবে ব্যবহার করতে হবে তা নয়। প্রয়োজনে একই পণ্য হালকা বা ভারীভাবে ব্যবহার করা যায়।

ত্বকের ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে মিশিয়ে পাতলা করলে হালকা কাভারেজ পাওয়া যায়, আবার সরাসরি লাগালে ঘন কাভারেজ হয়।

আবার গরমে হালকা, শীতে একটু ভারী সাজ বেছে নেওয়াও অনেকের অভ্যাস।

Tag :
জনপ্রিয়

হালকা, মাঝারি ও ‘ফুল কাভারেজ’ ফাউন্ডেশন বাছাইয়ের উপায়

আপডেট ০৮:৫৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্বকের সাজে যে প্রসাধনী মসৃণ ও সমান দেখাতে ব্যবহার করা হয় সেটিই হল- ‘বেস প্রসাধনী’ বা ত্বক সমান করার ক্রিম। সৌন্দর্যজাগতে যার নাম ফাউন্ডেশন।

তবে বছর বছর ফাউন্ডেশন ব্যবহার ও ধরনে আসে বদল। এমন বহু বিকল্প তৈরি হয় যা ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রেখেও প্রয়োজনমতো দাগ, অসম রং বা ক্লান্তভাব ঢেকে দিতে পারে।

তবে হালকা, মাঝারি, না ‘ফুল কাভারেজ’ ফাউন্ডেশন কোনটি ব্যবহার করা উচিত?

রূপবিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পণ্য নির্বাচনে সাজ ভারী না করেও স্বাভাবিক সৌন্দর্য আরও উজ্জ্বল করা সম্ভব।

ফাউন্ডেশন কী এবং কেন তা গুরুত্বপূর্ণ?

রূপ-বিশারদ ও ‘জারা’স বিউটি লাউঞ্জ অ্যান্ড ফিটনেস সেন্টারে’র প্রধান ফারহানা রুমি বলেন, “ত্বকের সাজ বাছাই করার সময় প্রথমে ভাবতে হবে কতটা দাগ বা অসম রং ঢাকতে হবে এবং কেমন ‘লুক’ প্রয়োজন। ত্বক একেবারে স্বাভাবিক রাখা পছন্দ হলে এক রকম ফাউন্ডেশন দরকার আর খুব নিখুঁত ও দাগহীন চেহারা চাইলে অন্য রকম।”

ফাউন্ডেশনের স্তর মূলত তিন ধরনের- হালকা, মাঝারি এবং সম্পূর্ণ বা ফুল কাভারেজ। প্রতিটি ফাউন্ডেশনের ব্যবহার ও ফল আলাদা।

তাই কোন পরিবেশে যাওয়া হচ্ছে, কতক্ষণ সাজ থাকতে হবে, ত্বকের অবস্থা কেমন এসব বিবেচনা করেই ফাউন্ডেশন নির্বাচন করে উচিত।

হালকা কাভারেজ ফাউন্ডেশন: স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রাখার উপায়

হালকা ফাউন্ডেশন ত্বককে ঢেকে দেয় না, বরং সামান্য সমান করে। ফলে ত্বকের স্বাভাবিক রং, ফ্রেকলস বা ছোট দাগ কিছুটা দেখা যায়, যা অনেকেই পছন্দ করেন। এতে সাজ খুব ভারী লাগে না।

ফারহানা রুমি বলেন, “মুখে ভারী প্রসাধনী পছন্দ করেন না কিংবা সারাদিন আরামদায়ক অনুভূতি চাইলে এই ধরনটি ব্যবহার উপযুক্ত। এটি প্রতিদিনের বাইরে যাওয়া, অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় বা দিনের কাজের জন্য ভালো।”

এই রূপচর্চাকর একটি কৌশলের কথা বলেন, “যদি নিজের কাছে তুলনামূলক ঘন পণ্য থাকে, তবে বড় ও নরম তুলি ব্যবহার করলে তা হালকা ফাউন্ডেশনের মতো দেখাতে পারে। এতে ত্বক প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল থাকে।”

মাঝারি কাভারেজ ফাউন্ডেশন: স্বাভাবিকতা ও নিখুঁততার মাঝামাঝি সমাধান

মাঝারি কাভারেজ ফাউন্ডেশন এ সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এতে ত্বক মোটামুটি সমান দেখায়, আবার পুরোপুরি ঢাকাও পড়ে না। প্রয়োজনে স্তর বাড়িয়ে কাভারেজও বাড়ানো যায়।

এই কাভারেজ ফাউন্ডেশন ত্বককে সমান করে তবে মুখে কৃত্রিম ‘লুক’ দেয় না। সামান্য দাগ বা রংয়ের পার্থক্য ঢাকতে হবে। তবে ত্বকের স্বাভাবিকতাও বজায় রাখা প্রয়োজন এমন হলে এটি উপযুক্ত।

তবে এই ফাউন্ডেশন মুখের মাঝখান থেকে ব্যবহার শুরু করা উচিত। কারণ নাক ও চোখের নিচে সাধারণত বেশি রংয়েরর তারতম্য থাকে। এরপর বাইরে দিকে মিশিয়ে দিলে সাজ স্বাভাবিক দেখায়।

এই ফাউন্ডেশন দিনের অনুষ্ঠান, অফিস পার্টি কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানেও ভালো মানায়।

ফুল কাভারেজ ফাউন্ডেশন: নিখুঁত সাজের জন্য

যখন ত্বকের দাগ, ব্রণের চিহ্ন, লালচেভাব বা অন্যান্য সমস্যা সম্পূর্ণ ঢাকার প্রয়োজন হয়, তখন ফুল কাভারেজ ফাউন্ডেশন প্রয়োজন। এই প্রসাধনী অনেকটাই ঘন এবং দীর্ঘসময় ত্বকে স্থায়ী হয়।

এই ধরনের পণ্য ব্যবহার করার সময় প্রথমে তুলি দিয়ে লাগিয়ে পরে ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে মিশিয়ে নিলে ত্বকে ফল সবচেয়ে ভালো পাওয়া যায়।

এতে ফাউন্ডেশন কেকের মতো জমে থাকে না এবং সমানভাবে বসে যায়। সাধারণত বিয়ে, বড় অনুষ্ঠান, মঞ্চে ওঠা বা ফটোশুটের জন্য ব্যবহার করা হয় এমন ফাউন্ডেশন।

ত্বক প্রস্তুত না করলে সাজ ভালো হয় না

যে কোনও ধরনের ফাউন্ডেশনই ব্যবহার করা হোক না কেন, ত্বক প্রস্তুত না থাকলে ফল ভালো হবে না।

মেইকআপ শুরুর আগে ত্বক পরিষ্কার করে আর্দ্রতা বজায় রাখা জরুরি। শুষ্ক ত্বকে সাজ ভেঙে যায়, আবার অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকে প্রসাধনী গলে যেতে পারে।

তবে ত্বক আর্দ্র রাখলে প্রসাধনী সহজে বসে এবং দীর্ঘসময় সুন্দর থাকে।

একই পণ্য ভিন্নভাবে ব্যবহার সম্ভব

একবার এক ধরনের প্রসাধনী কিনেলে, সেটি সবসময় একইভাবে ব্যবহার করতে হবে তা নয়। প্রয়োজনে একই পণ্য হালকা বা ভারীভাবে ব্যবহার করা যায়।

ত্বকের ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে মিশিয়ে পাতলা করলে হালকা কাভারেজ পাওয়া যায়, আবার সরাসরি লাগালে ঘন কাভারেজ হয়।

আবার গরমে হালকা, শীতে একটু ভারী সাজ বেছে নেওয়াও অনেকের অভ্যাস।