সুস্থ, ঘন ও লম্বা চুলের জন্য ভেষজ তেল ব্যবহারের প্রচলন পুরানো। এর মধ্যে রোজমেরি তেল অনেকেই পছন্দ করেন।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে আসলেই কি এই তেল চুল পড়া কমায় এবং দ্রুত নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে?
রোজমেরি তেল কী এবং কোথা থেকে আসে?
রোজমেরি একটি সুগন্ধি ভেষজ উদ্ভিদ, যা পাওয়া যায় মূলত ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে। রান্না, সৌন্দর্যচর্চা ও ভেষজ চিকিৎসায় রোজমেরির ব্যবহৃত হচ্ছে অনেক আগ থেকেই।
আর এই উদ্ভিদ থেকে নিষ্কাশিত বা বের করা তেলই রোজমেরি তেল। মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা ও চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক বলেই সাধারণত বিবেচিত।
‘বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভে’র রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি বলেন, “রোজমেরি তেলের জীবাণুনাশক গুণ মাথার ত্বকে খুশকি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ত্বকের রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, যা চুলের গোড়াকেও সক্রিয় রাখতে ভালো কাজ করে।”
চুলের বৃদ্ধিতে রোজমেরি তেলের কার্যকারিতা
২০১৫ সালে ইরানের ‘ইউনিভার্সিটি অফ মেডিকেল সায়েন্সেস’য়ের করা গবেষণায়, চুল পড়া প্রতিরোধে ব্যবহৃত একটি প্রচলিত চিকিৎসা উপাদানের সঙ্গে রোজমেরি তেলের তুলনা করা হয়।
‘স্কিনমেড’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলে উল্লেখ করা হয়- ছয় মাস ব্যবহারের পর দেখা গেছে, উভয় ক্ষেত্রেই চুলের বৃদ্ধিতে প্রায় সমান ফল পাওয়া গেছে। তবে রোজমেরি তেল ব্যবহারে মাথার ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি কম হয়েছে।
এই ফলাফল থেকে ধারণা করা হয়, মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে এবং প্রদাহ কমিয়ে রোজমেরি তেল চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ
চুলের গোড়া বা ফলিকল যেখানে নতুন চুল তৈরি হয়, সেটি আসলে মাথার ত্বকের অংশ। তাই ত্বকের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে।
রোজমেরি তেলের জীবাণুরোধী ও প্রদাহনাশক বৈশিষ্ট্য মাথার ত্বকের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে, চুলের গোড়া মজবুত এবং নতুন চুল গজানোর সম্ভাবনা বাড়ায়।
আছে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
রোজমেরি তেল সাধারণভাবে নিরাপদ বলা হয়। তবুও সবার ত্বক একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় না।
তাই রূপ-বিশারদ শারমিন কচির পরামর্শ, “সরাসরি ব্যবহার করার আগে অল্প পরিমাণ তেল মাথার ত্বকের ছোট অংশে লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।”
যদি চুলকানি, জ্বালা, লালচেভাব বা ফোলাভাব দেখা যায়, তবে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।
যেভাবে চুলে রোজমেরি তেল ব্যবহার করবেন
এই সৌন্দর্যচর্চাবিদের মতে, “রোজমেরি তেল সরাসরি ব্যবহার না করে অন্য মৃদু তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা নিরাপদ। নারিকেল বা জলপাই তেলের সঙ্গে অল্প পরিমাণ রোজমেরি তেল মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালা হওয়ার সম্ভাবনা কমে।”
এক কাপ অন্য তেলের সঙ্গে এক চা-চামচ রোজমেরি তেল মিশিয়ে সংরক্ষণও করা যায়। এতে ব্যবহার সহজ হয় এবং মাথার ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয় না।
চুলের ঘনত্ব ও দৈর্ঘ্য অনুযায়ী অল্প পরিমাণ তেল নিয়ে মাথার ত্বকে আলতোভাবে মালিশ করতে হবে। আঙুলের ডগা দিয়ে কয়েক মিনিট মালিশ করলে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং তেল সহজে শোষিত হয়।
এছাড়া তেল লাগিয়ে কিছু সময় রেখে দিলে উপকার বেশি পাওয়া যায়।
কতদিনে ফল পাওয়া যেতে পারে?
চুলের বৃদ্ধি একটি ধীর প্রক্রিয়া। তাই কয়েক সপ্তাহ ব্যবহার করেই বড় পরিবর্তন আশা করা যাবে না।
“নিয়মিত ব্যবহার করলে কয়েক মাস পর চুল পড়া কমা, চুল ঘন হওয়া বা নতুন চুল গজানোর লক্ষণ দেখা যেতে পারে”- মন্তব্য করেন শারমিন কচি।












